শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
মৃণাল সেনকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে বায়োপিক। আর এ ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করবেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। নতুন বছরে এটাই আপাতত টলিউডের সবচেয়ে বড় খবর।
গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন তিনি। তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে জানা গেল, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে তার বায়োপিকের শুটিং শুরু করবেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বায়োপিক বা ওই ধাঁচের ছবি আগেও করেছি। কিন্তু এটা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং।
প্রসঙ্গত, সৃজিত এই জীবনীচিত্রটি করতে চেয়েছিলেন ওয়েব সিরিজে। লকডাউনের সময় চিত্রনাট্যও লিখে ফেলেন। তার পরে ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। স্বভাবতই সিরিজের তুলনায় দৈর্ঘ্য কমাতে হয়েছে। সৃজিতকে সাহায্য করেন মৃণালের পুত্র কুণাল সেন। যাকে মৃণাল ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করতেন। কুণাল সৃজিতকে ছবিটি বানানোর অনুমতি দেন। সৃজিত-কুণাল নিরন্তর যোগাযোগও আছে।
তবে মৃণালের ভূমিকায় চঞ্চলকে নেওয়া নিঃসন্দেহে বড় পদক্ষেপ। সপ্তাহখানেক আগে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। কেন চঞ্চল? সৃজিতের কথায়, ‘প্রথমত দুজনের মুখের মিল আছে। সেটা কাকতালীয়। কিন্তু মৃণালবাবুর মতোই চঞ্চলের চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো এবং সজাগ। তা ছাড়াও মৃণালবাবুর রাজনীতি চেতনা, তার যাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও চঞ্চলের প্রচুর মিল। সেটা কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু মিলটা আছে।’
ছবিতে অবশ্য মৃণালের ব্যক্তিগত এবং পরিচালনার জীবনই বেশি থাকবে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সময়কালে তার বানানো কলকাতা ট্রিলজি ছবির অনেকটা জুড়ে থাকবে। ছবিতে থাকবেন মনামী ঘোষ এবং সম্রাট চক্রবর্তীও।
মৃণাল জন্মেছিলেন ১৯২৩ সালের ১৪ মে। তিনি ছবি বানিয়েছিন বাংলা, হিন্দি এবং তেলুগুতে। তার নাম পরিচালক হিসাবে বাংলার সর্বকালীন সেরাদের মধ্যে অন্যতম বলে পরিগণিত হয়। ‘পদ্মভূষণ’ থেকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’— সবই রয়েছে তার ঝুলিতে। ভুবন সোম, মৃগয়া, আকালের সন্ধানে, খারিজ, পদাতিক, একদিন প্রতিদিন— এ সবই তার অন্যতম সৃষ্টি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। ১৯৫৫ সালে ‘রাতভোর’ থেকে ২০০২ সালের ‘আমার ভুবন’— মাঝে রয়েছে মৃণালের অসংখ্য সিনেমা।
সেই মৃণালের জীবনীচিত্রে তার ভূমিকায় অভিনয় করবেন চঞ্চল। সম্প্রতি যার দু’পর্বের ‘কারাগার’, ‘তকদির’-এর মতো ওয়েব সিরিজ এবং ‘হাওয়া’র মতো ছবি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। সম্প্রতি বাবাকে হারিয়েছেন চঞ্চল। আপাতত বাংলাদেশে তিনি, শুটিং শুরুর আগে কলকাতায় পৌঁছবেন।
সম্প্রতি কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে একসঙ্গে দেখা যায় সৃজিত-চঞ্চলকে। তার আগে চঞ্চল একটি ফেসবুক লাইভে জানিয়েছিলেন, তিনি সৃজিতের সঙ্গে কাজ করতে চলেছেন। সৃজিত তখন বলেছিলেন, ‘সময় এলে সবই জানতে পারবেন।’ অবশেষে সময় এল।